সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

IMG_2695.JPG

পাকিস্তান বাহিনীর নির্মমতার সাক্ষী পাহাড়তলী বধ্যভূমি

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা সংগ্রামে এদেশের বহু নারী-পুরুষ জীবন দিয়েছেন। পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করে বিভিন্ন স্থানে গণ কবর দিয়েছিল। যেগুলোকে বলা হয় বধ্যভূমি। এমনই একটি বধ্যভূমি হচ্ছে চট্টগ্রামের ফয়’স লেক এলাকায় অবস্থিত পাহাড়তলী বধ্যভূমি।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় কতগুলো স্থানকে পাকিস্তানিরা বধ্যভূমি হিসেবে ব্যবহার করেছিল তার সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে ‘ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ এদেশে ৯৪২ টি বধ্যভূমি শনাক্ত করেছে। যারমধ্যে চট্টগ্রামেই সর্বাধিক পাওয়া যায়। যেখানে ১১৬ টি স্থানকে বধ্যভূমি হিসেবে শনাক্ত করে।
 
ইতিহাস: পাহাড়তলী বধ্যভূমি চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ বধ্যভূমি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বধ্যভূমিটির শুধু একটি গর্ত থেকেই প্রায় এগারো শত মাথার খুলি উদ্ধার হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বধ্যভূমির বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে পাঁচ হাজারের অধিক লোককে গুলি ও জবাই করে হত্যা করেছিল! হত্যার পূর্বে নির্যাতনও করা হত। শরীরের চামড়া কেঁটে লবণ মরিচ লাগানো হত! ক্যাপ্টেন সামদারানির নেতৃত্বে চলত এসব নির্যাতন। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বাঙালীদের নিয়ে এসে গভীর রাত থেকে শুরু করে ভোর পর্যন্ত চালাতো হত্যাকাণ্ড!

যেভাবে যাবেন: চট্টগ্রামের বাইরে থেকে একাত্তরের বীরদের সন্মান জানাতে হোক কিংবা অন্যকোন কাজে চট্টগ্রাম আসলে ফয়’স লেক এ নামবেন। সেখানে থেকে দুই মিনিট পূর্বদিকে হাটলেই দেখা পাবেন বধ্যভূমিটি। মূলত জিইসি যেতে চাইলে এই বদ্ধভূমির পাশ দিয়েই গাড়ি যায়।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে নানাবিধ কর্মকাণ্ড থাকলেও পাহাড়তলীর এই বধ্যভূমি সারাবছরই থাকছে অনেকটা অযত্ন ও অবহেলায়। বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এ বছর কিছুটা সাজানো হচ্ছে। বধ্যভূমির পাশে যে ভবনটি দেখবেন তার কাজ বন্ধ রয়েছে বধ্যভূমির স্থান দখল করার কারণে। আদালত থেকে ভবনটি উচ্ছেদ করার নির্দেশ দিলেও এখনও সেটি উচ্ছেদ করা হয়নি। বধ্যভূমিটি সংরক্ষণে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
  • তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।