সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

footbridge-and-skyline.jpg

প্রেরণামূলক কাহিনী ব্রুকলিন ব্রীজ ও একটি শিক্ষণীয় ঘটনা

তাই একটিমাত্র সচল আঙ্গুল ব্যবহার করতেন। তিনি পরবর্তীতে কিছু সংকেত বের করেছিলেন। যেগুলো তার স্ত্রীই বুঝত।

ব্রুকলিন ব্রীজ নিউইয়র্ক শহরের ইস্ট নদীর উপর অবস্থিত। ব্রীজটি ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনকে যুক্ত করেছে। ৬০০ জন শ্রমিক মিলে ১৫ মিলিয়ন ডলার (বর্তমান মূল্য: ৩২০ মিলিয়নের বেশি) ব্যয় করে ১৪ বছর ধরে এটি নির্মাণ করেছিলেন। ব্রীজটি তৈরির ঘটনাটি খুবই প্রেরণাদায়ক। হার না মানার গল্প। রয়েছে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও অবদান। গতকাল ছিলো নারী দিবস। নারী দিবসে সকল নারীদের প্রতি সন্মান, শ্রদ্ধা ও স্নেহ জানিয়ে ঘটনাটি শুরু করছি।

১৮৮৩ সালে ইঞ্জিনিয়ার জন রবলিং এর জীবনে খুবই মহত্বপূর্ণ বর্ষ ছিল। ঐ বছর তিনি ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনকে একত্রিত করতে একটি সুন্দর ব্রীজ নির্মাণ করার ধারণা প্রদান করেন। তিনি যখন ব্রীজটির ধারণা দেন তখনকার সময়ে সেখানে তেমন ব্রীজের কল্পনাও কেউ করেনি। বিশেষজ্ঞরা তার ধারণাকে অসম্ভব বলে গ্রহণ করেনি। যখন সকলেই তার পর্যবেক্ষণ বা ধারণাকে বাতিল করে দিলেন তখনও তিনি নিজের পরিকল্পনাকে কাজে লাগাতে সচেষ্ট ছিলেন।

রবলিং তার প্রতিষ্ঠানকে বলেছিলেন তার দৃষ্টিতে ব্রীজ নির্মাণের ধারণা ঠিকই আছে। রবলিং এর ধারণার সাথে শুধুমাত্র তার ছেলে ওয়াশিংটন একমত ছিলেন। ওয়াশিংটনও একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। বাবা-ছেলে দুজনে বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করেন এবং এজন্য টীম প্রস্তুত করেন। তারা এই উদ্দেশ পুরো করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তারা ব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু করলেন। কিন্তু কার্যস্থলে এক দূর্ঘটনায় রবলিং এর মৃত্যু হয়। কি ভাবছেন? আমি আপনি হলে হয়ত কাজ ছেড়েই দিতাম। কিন্তু ওয়াশিংটন কাজ ছেড়ে না দিয়ে তার বাবার স্বপ্ন পূরণে সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। 

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! ইস্ট নদীর গভীরে ডুবে কাজ করায় অনেক শ্রমিক ক্যাসন রোগে (Caisson disease/The bends) আক্রান্ত হতে থাকেন। অনেকে মারাও যান। ওয়াশিংটন নিজেও আক্রান্ত হন। তার মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তিনি চলাফেরায় অক্ষম (প্যারালাইসড) হন।  কথাও বলা বন্ধ হয়ে যায়। শুধু হাতের একটি আঙ্গুল নাড়াতে পারতেন। সে সময় বিশেষজ্ঞরা তাকে কাজ বন্ধের পরামর্শ দিলেন। সবমিলে তিনি পাগলপ্রায় হলেন।

ওয়াশিংটন মানবসেবার চিন্তায় তার নির্মাণ কাজ কোনো ভাবেই বন্ধ করতে চাননি। তিনি তার উদ্দেশ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রেখেছিলেন। তিনি তার চিন্তা-চেতনা তার স্ত্রীর সাথে শেয়ার করতেন। কথা বলতে পারতেন না। তাই একটিমাত্র সচল আঙ্গুল ব্যবহার করতেন। তিনি পরবর্তীতে কিছু সংকেত বের করেছিলেন। যেগুলো তার স্ত্রীই বুঝত। শুরুতে তার সবকিছুকেই মূর্খতা বৈ অন্যকিছু মনে হত না!

এতকিছুর পরও ওয়াশিংটন হার মানেননি। ১৩ বছর ধরে তার স্ত্রী তার নির্দেশনাগুলো অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারদের বোঝাতেন। ইঞ্জিনিয়াররা তার নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করে শেষ পর্যন্ত ব্রুকলিন ব্রীজ তৈরি করতে সক্ষম হন।

আজ ব্রুকলিন ব্রীজটি ১২৫ বছর ধরে টিকে আছে। যার উপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ যানবাহন চলাচল করছে। আর লক্ষ লক্ষ দর্শক, পর্যটক, পথচারীতো আছেই।

যতকিছুই হোক না কেন পরিস্থিতিকে আপনার ইচ্ছাশক্তির উপর আঘাত করতে দিবেন না। নিজের লক্ষ্যকে স্থির করে কাজে লেগে থাকুন। বলুন কখনই কোন কিছুতেই হার মানছি না। দেখবেন আপনার উদ্দেশ সফল।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।