গন্তব্য

সমুদ্রের গর্জন

ইনানী সমুদ্র সৈকতে প্রবালের খোঁজে


আসলে ভুলটা ছিল আমারই। বিকেলের দিকে জোয়ার থাকে। আর জোয়ারের পানিতে প্রবাল দেখার সুযোগ নেই। প্রবাল দেখতে যেতে হয় সকালের দিকে।


DVM (Doctor of Veterinary Medicine). ১৫ এপ্রিল ২০১৬, ১১:৪৫


বৃহঃস্পতিবার বিকেল হতে না হতেই কক্সবাজারের কলাতলী থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে যাত্রা করলাম ইনানী সমুদ্র সৈকতের উদ্দেশ্য। কলাতলী থেকে মাত্র ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে প্রবাল গঠিত সমুদ্র সৈকতটিকে ইমাজিং টাইগারও বলা হয়। পূর্বে পাহাড় আর পশ্চিমে সমুদ্র বেষ্টিত এই সৈকতটি বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়।

কলাতলী থেকে সিএনজি ছাড়ার আট দশ মিনিট পরই চমক দেখার সুযোগ হয় আমার। কলাতলী থেকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে যাওয়ার পথে একপাশে পড়ে উঁচু উঁচু পাহাড় আর অন্যপাশে বিশাল সাগরের ঢেউ। মনের অজান্তেই একবার ডানে আরেকবার বামে তাকাচ্ছিলাম।

দেখা মেলে ঝাউ বাগান, সারি সারি নারিকেল ও সুপারি গাছ। আছে হিমছড়িতে শীতল পানির ঝরনা। নীল জলরাশির বিশাল সমুদ্র বক্ষ এক পলকে দেখার সুযোগ হয় হিমছড়ির পাহাড়ে উঠলে। তবে এবারের যাত্রায় আমি হিমছড়ি যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করি।

একা একা না গিয়ে আট দশজন মিলে খোলা জীপে গেলে বেশি মজা হবে। সিএনজির ভিতর থেকে বাইরে তাকানো একটু কষ্টকর। তাছাড়া আঁকাবাঁকা রাস্তায় কিছুটা সাবধানতার জন্যও মাথা বের করতে সমস্যা হচ্ছিল। এভাবেই প্রায় ৪৫ মিনিট পর পৌঁছে যাই ইনানী সমুদ্র সৈকত।

সিএনজিতে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এর ডেপুটি ডিরেক্টর মোঃ আজাদুল ইসলাম এর সাথে। খুবই ভদ্র ও রসিক লোক। বয়স হলেও ভ্রমণের নেশা অনেক। ইনানী সমুদ্র সৈকতের ডাবের পানির শীতল জল খুবই মিষ্টি হয় তা জানা হল এই ভদ্রলোকের আতিথিয়তায়।

যাইহোক, ইনানী সমুদ্র সৈকতের প্রবাল পাথর কোথায়? খুঁজে পাইনি। পত্রিকা আর টিভিতে কি ভুল দেখায়? নাকি নিছক পর্যটক আকর্ষনের ধান্দা? এই সৈকতে আসার কি কোন দরকার ছিল? এমনই ভাবছিলাম কিছুক্ষণ।

আসলে ভুলটা ছিল আমারই। বিকেলের দিকে জোয়ার থাকে। আর জোয়ারের পানিতে প্রবাল দেখার সুযোগ নেই। প্রবাল দেখতে যেতে হয় সকালের দিকে। সকাল গড়িয়ে যতই দুপুর হতে থাকে ততই এই সুযোগ হাতছাড়া হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। 

বিকেলে গেলেতো কিছুই নাই। এই সৈকতটি গোসলের অনুপোযোগী। ঢেউয়ের কারণে পাথরে আঘাত পেয়ে আহত হবার সম্ভাবণা আছে। গোসলের জন্য উপযুক্ত হচ্ছে শহরের কাছেই থাকা লাবণী পয়েন্টটিই।

সৈকতের পূর্বদিকে আছে পাহাড়। সেখানে বানর, হনুমান এমনকি অনেক সময় হাতিরও দেখা মেলে। কিন্তু আমার দেখার সুযোগ হয়নি। সেখানের সাইনবোর্ডে এমনই লেখা আছে।

যাওয়ার উপায়: কক্সবাজারের কলাতলী থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, টমটম, জীপ, ছোট বাস ইত্যাদি যোগে। সিএনজি, টমটম ইত্যাদিতে রিজার্ভ যেতে বললে যাবেন না। লোকাল যেতে চাইবেন।

ইনানীর পূর্ণ সৌন্দর্য এ ভ্রমণে পাইনি। তবে আসা যাওয়ার পথে যে নয়নাভিরাম সবুজ আর নীল জলের সৌন্দর্য সেটাও কিন্তু কম নয়। সবমিলে ছুটির দিনের বিকেলটা স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি করেই রাখলাম। আপনিও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন। 

কর্মজীবনের ক্লান্তি থেকে শীতল বাতাস, বিস্তৃত জলরাশি, সবুজ ঝাউবন ইত্যাদির ভিতর হারিয়ে যেতে পারেন মাত্র কয়েকটি ঘন্টা সময় ব্যয় করেই।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।